পড়ালেখার উৎকণ্ঠা কমাও ১০টি উপায়ে

Date: July 07, 2018

পড়ার সময় মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তার কবলে পড়েনি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এটা পড়ার যে শুধু ক্ষতি করে তাই নয়, শরীরের জন্যও ক্ষতিকর। এই অবস্থা থেকে দূরে থাকার কিছু উপায়ঃ

১. আলোকময় পরিবেশে থাকুন

মানুষের স্বাস্থ্যকর এবং আনন্দময় জীবনযাপনের জন্য কিছু পরিমাণ সূর্যালোক দরকার। অন্ধকার পরিবেশে বেশি সময় কাটালে নেগেটিভ চিন্তা, হতাশার পরিমাণ বাড়ে। তাই চেষ্টা করুন আলোতে থাকতে, সেটা সূর্যালোকই হোক আর কৃত্রিম আলোই হোক।

২. ব্যায়াম

মস্তিষ্কের এন্ডরফিন, ডোপামিন এবং সেরাটোনিন ক্ষরণের জন্য ব্যায়ান খুবই উপযোগী। এই তিনটি হরমোন দুশ্চিন্তা কমাতে সাহায্য করে। সবচেয়ে সহজ উপায় হল নিয়মিত হাঁটা বা দৌড়ানো। সাঁতার কাঁটা যেতে পারে, এটা হার্টকে সবল রাখে।

৩. একটু হাসি

এটা সবার জানা যে হাস্যরস মানুষের দুশ্চিন্তা দূরে রাখতে সহায়ক। তাই চেষ্টা করুন এমন মানুষের সাথে সময় কাটাতে যারা আপনার মনকে উৎফুল্ল রাখে। তাদের সাথে ৫-৬ মিনিট কথা বলা আপনার চিন্তা আর উদ্বিগ্নতা অনেক্টাও কমিয়ে দেবে।

৪. উৎসাহমূলক লেকচার শোনা

দিনে অল্প কিছু সময় বিভিন্ন মোটিভেশনাল লেকচার বা ভিডিও দেখতে পারেন। TED talk কিংবা বিভিন্ন বিখ্যাত মানুষের সাক্ষাৎকার দেখলে মানসিক সাহস পাবেন, যা খুবই জরুরী।

৫. দানশীলতা এবং সাহায্য করা বাড়িয়ে দিন

সুখী থাকার অন্যতম ভাল ও কার্যকর উপায় অন্যকে সাহায্য করা। উদাহরণস্বরূপ, আপনার কোন বন্ধুকে পড়ালেখায় বা যেকোনো কাজে সাহায্য করতে পারেন। এটা মানুষের মাঝে ভাল সম্পর্ক তৈরির পাশাপাশি নিজের মানসিক উন্নতিতেও সহায়ক।

গরীব বা অর্থহীন মানুষকে যথাসম্ভব সাহায্য করুন। দান করার পর তাদের এক চিলতে হাসি হয়তো আপনার অনেক দুশ্চিন্তা দূরে ঠেলে দেবে।

৬. পড়ার স্থান

পড়ালেখার জন্য আলাদা জায়গা রাখুন, সম্ভব হলে আলাদা রুম রাখতে পারেন। আর অবশ্যই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন জায়গায় বেছে নিন। পড়ার জায়গায় যেন যথেষ্ট আল থাকে আর কোলাহল মুক্ত হয়।

৭. যথেষ্ট ঘুমান

দিনে ৬-৮ ঘন্টা ঘুমানো মানসিক সুস্থতার জন্য খুবই দরকারি। নিদ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় পড়তে না বসাই ভাল। আগে হালকা ঘুমিয়ে পড়ে পড়া শুরু করুন।

৮. পড়ার সঙ্গী

এমন কারো সাথে পড়ালেখা করুন যে আপনার মনকে উৎফুল্ল রাখতে এবং বিভিন্ন দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে। যদি কাউকে না পান, তবে একাই পড়ালেখা করুন, কিন্তু নেগেটিভ চিন্তাধারী লোকদের থেকে দূরে থাকুন।

৯. ক্ষুধা-পিপাসা মিটিয়ে পড়তে বসুন

ক্ষুধা-পিপাসা মিটিয়ে পড়তে বসলে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয় এবং দুশ্চিন্তা দূরে রাখতেও সহায়ক। 

১০.  আনন্দ ভাগ করে নিন

যেই আনন্দ ভাগ করে নেয়া যায় না, তা ক্ষণস্থায়ী। চেষ্টা করুন, নিজের আনন্দের মুহূর্তগুলো সবার সাথে শেয়ার করতে। যদি আপনার কাছে ২ টাকা থাকে আর ২টি অপশন থাকেঃ নিজে ২টা চকলেট খাবেন অথবা বন্ধুকে একটা দিয়ে নিজে আরেকটা খাবেন, তাহলে ২য় অপশন টাই বেছে নিন।

0 0 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x