রংবেরং এর আতশবাজির খেলা দেখতে কার না ভাল লাগে! কিন্তু এই আতশবাজিই হতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারন। তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ নেদারল্যান্ডের Enschede শহরে ঘটে যাওয়া এক আতশবাজির বিস্ফোরণ। ডাচ ভাষায় “Vuurwerkramp” নামে পরিচিত যার অর্থ fireworks disaster.

SE fireworks কোম্পানির কাজ ছিল আতশবাজি তৈরি করা। ১৩ মে, ২০০০ সালে গ্রিনিচ মান সময় বেলা ১ টার দিকে SE fireworks কোম্পানির সেন্ট্রাল  বিল্ডিংয়ে প্রথম আগুন লাগে যেখানে প্রায় ৯০০ কেজি আতশবাজি রাখা ছিল। বিস্ফোরণ হলে আগুন বাইরে রাখা আরও ২টি কন্টেইনারে ছড়িয়ে পড়ে যেখানে অবৈধভাবে আরও প্রায় ১৭৭ টন আতশবাজি রাখা ছিল। এখান থেকে সবচেয়ে বড় বিস্ফোরণটি ঘটে। প্রথম বিস্ফোরণের শক্তি ছিল প্রায় ৮০০ কেজি T.N.T. এর সমান আর দ্বিতীয়টার সক্তি ছিল প্রায় ৫০০০ কেজি T.N.T. এর সমতুল্য। প্রায় ৩০ কিমি দূর থেকেও কম্পন অনুভূত হয়। এই শক্তিশালী বিস্ফোরণের কারণে সৃষ্ট আগুন এতই ভয়াবহ ছিল যে পার্শ্ববর্তী দেশ জার্মানিও আগুন নিয়ন্ত্রনে অংশ নেয়।

বিস্ফোরণের কারণে ওয়্যারহাউসের চারদিকে প্রায় ১০০ একর বা ০.৪ বর্গ কিমি এলাকা ধবংস হয়। ৪০০ বাড়ি পুরপুরি ধ্বংস হয় আর মোট ১৫০০ বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ দুর্ঘটনায় ৪ জন অগ্নিনির্বাপক কর্মী সহ ২৩ জন নিহত হয়, আহত হয় প্রায় ১ হাজার মানুষ। Roomberk এলাকার প্রায় ১০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেয়া হয় দুর্ঘটনার মোট ক্ষতির আরথিক পরিমাণ প্রায় ৪৫৪ মিলিয়ন ইউরো

আতশবাজিগুলো সুরক্ষিত বাংকারে রাখা ছিল বটে, কিন্তু অবৈধভাবে জমা করে রাখা কন্টেইনার গুলোর কারণে নিরাপত্তা অনেকটাই কমে যায়। এগুল খুব কাছকাছি ছিল এবং কোন ধরনের পার্টিশানিং ছিল নাঅবাক করা ব্যাপার, দুর্ঘটনার মাত্র এক সপ্তাহ আগে কোম্পানির অডিট করা হয় ডাচ অফিসিয়ালরা একে নিরাপদ ঘোষণা করে আসলে তখন শুধু বৈধভাবে রাখা আতশবাজিগুলই সেখানে ছিল ১৯৭৭ সালে যখন ওয়্যারহাউস বানানো হয় তখন এটা ছিল শহরের বাইরে কিন্তু এরপর আশেপাশে স্বল্পআয়ের মানুষেরা বসতি গড়ে তোলে সিটি কর্পোরেশন এ ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নেয় নি কোম্পানিকে অন্যত্র সরানোর নির্দেশনা দেয়া হয় নি, শুধুমাত্র এই ভয়ে যে, সব খরচ তাদের দিতে হবে

কোম্পানির দুই ম্যানেজারকে আটক করা হয়। তাদের অবৈধভাবে আতশবাজি রাখা এবং দায়িত্বে অবহেলার অপরাধে বিভিন্ন মেয়াদে জেলে পাঠানো হয়। এদিকে ধারনা করা হয়, ইচ্ছাকৃত ভাবে কেউ এই আগুন লাগিয়েছিল। ২০০৩ সালে André de Vries নামে একজন এ অপরাধে আটক করে ১৫ বছরের জেল দেয়া হয়। মোট প্রায় ৮.৫ মিলিয়ন ইউরো দেয়া হয় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে। ডাচ সরকার আতশবাজি তৈরির সাথে সম্পর্কিত সেফটি আইনগুলো আরও কঠোর করে। এখন পযন্ত আরও তিনটি অবৈধ স্টোরেজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

তথ্যসূত্রঃ

উইকিপিডিয়া,

https://www.aria.developpement-durable.gouv.fr , বিবিসি,

NL Times

Photo credit:

Wikipedia

https://i.redd.it/8xumlas89ovx.jpg

Leave a Reply